kalimpong

কালিম্পং টুরিস্ট প্লেস ভ্রমণ গাইড।kalimpong Tourist Place

উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার শহর, কালিম্পং-এ ঘুরে দেখার অনেক কিছু আছে। আর এটি একটি পাহাড়ি জায়গা হওয়ার কারণে এখানকার কোলাহল কম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থান ।চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন খুব সহজেই।

কালিম্পং যাওয়ার সঠিক সময়:

কালিম্পং বর্ষাকাল বাদে সব সময় যাওয়া যায় ।তা আপনি যখন খুশি যেতে পারে তবে ,ডিসেম্বর-জানুয়ারি ও মার্চ-এপ্রিল এখানে যাওয়ার জন্য বেস্ট সময় ।

থাকা ও খাওয়ার বেবস্থা:

যেহেতু আমরা কালিম্পং ভ্রমণ একদিনের মধ্যেই ঘুরে কমপ্লিট করব, তার জন্য থাকার কোন প্রশ্নই উঠছে না ।তবে ,যারা কালিম্পং এর থাকতে চায় তারা।যে তার মূল শহর, তার বাস স্ট্যান্ডে আশেপাশে কিন্তু হোটেল নিয়ে নিতে পারেন। অনলাইনে আগে থেকে হোটেল বুক করলে 500 টাকাতে হোটে9ল পেয়ে যেতে পারেন।

কিভাবে যাবেন ?

কলকাতা তথা ভারতবর্ষের যেকোনো স্থান থেকে বা বাংলাদেশ থেকে সোজা আপনাকে পৌঁছাতে হবে এনজিপি স্টেশন শিলিগুরি।সেখান থেকে আপনাকে পৌঁছাতে হবে শিলিগুড়ি এন বি এস টি সি বাস স্ট্যান্ড ।যেখান থেকে বাসে মাত্র 110 টাকার বিনিময় আড়াই ঘন্টার মধ্যে আপনি পৌছে যাবেন কালিম্পং ।

কলকাতা তথা ভারতবর্ষের যেকোনো স্থান থেকে বা বাংলাদেশ থেকে সোজা আপনাকে পৌঁছাতে হবে এনজিপি স্টেশন শিলিগুরি।সেখান থেকে আপনাকে পৌঁছাতে হবে শিলিগুড়ি এন বি এস টি সি বাস স্ট্যান্ড ।যেখান থেকে বাসে মাত্র 110 টাকার বিনিময় আড়াই ঘন্টার মধ্যে আপনি পৌছে যাবেন কালিম্পং ।

সকাল 9:15 সময় পৌছে গেলাম কালিম্পং শহরে। সেখানে বাস স্ট্যান্ডের পাশেই ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে একটি ট্যাক্সি লোকাল ট্যুরের জন্য বিলাপ করে নিলাম। মাত্র বারোশো টাকার বিনিময় পুরো কালিম্পংয়ের ট্যুরিস্ট স্পট তারা আমাদেরকে দেখাবে 5 ঘণ্টায় এমনটাই চুক্তি হয়ে গেল। চারজন গেলে পার হেড আপনার 300 টাকা করে খরচ পড়বে।

ডেলো পার্ক:

সবার প্রথমে নিয়ে গেল ডেলো পাহাড়ের ডেলো পার্কে। যেটি কালিম্পং এর সবচেয়ে উঁচু স্থানে। পৌঁছে পাহাড়ের চিকেন ও ভেজ মম দিয়ে পেট পুজো করে ফেললাম। পার্কের প্রবেশ মূল্য 10 টাকা ভেতরে আছে ডেলো টুরিস্ট লজ। যেখানে আপনি রাত কাটাতে পারেন ।

ডেলো থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এই অপরূপ দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করে তুলতে পারে।তাছাড়া এখানে কিন্তু আপনি সময় কাটাতে পারেন কয়েক ঘন্টা।আপনি উপভোগ করতে পারেন এখানকার লোকাল ফোক গান ।ডেলো পাহাড়ের কিন্তু আছে কালিম্পং এর সেরা আকর্ষণ প্যারাগ্লাইডিং । আপনি এই ডেলো পাহাড়ে মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে প্যারাগ্লাইডিং করতে পারেন ।তবে এই তিন হাজার টাকাটা কিন্তু কিছু কম হতে পারে আপনারা ঠিকঠাকমতো কথা করে নিতে পারেন ।

কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার:

ডেলো পাহাড়ের ঘন্টা সময় কাটানোর পর আমরা কিন্তু সোজাসুজি পৌঁছে গেলাম কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার ।মাত্র কুড়ি টাকা প্রবেশ মূল্য দিয়ে আমরা ভিতরে পৌঁছালাম। সায়েন্স হলে গাড়ি পার্কিং এর জন্য আপনার এক্সটরা 30 টাকার টিকিট কাটতে হবে ।কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার আপনি বিভিন্ন ধরনের সাইন্স অ্যাক্টিভিটি করতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন থ্রিডি প্রজেক্ট এর মাধ্যমে বর্তমান জগতে সাইন্স সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যেগুলো খুব সুন্দরভাবে চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

kalimpong,hanuman temple
kalimpong,hanuman temple

কালিম্পং দুর্গা মন্দির:

কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার থেকে বেরিয়ে আমরা এবার সরাসরি পৌঁছে যাব কালিম্পং দুর্গা মন্দির। দুর্গা মন্দির খুবই শান্ত ও মনোরম একটি জায়গা।দুর্গা মন্দির এর পাশে অবস্থিত বিহার হনুমান মন্দির। প্রায় 400 সিঁড়ি ভেঙে আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে বিশাল আকার হনুমান মূর্তির পাদদেশে। এখানে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন গাছপালা এবং সুন্দরভাবে তৈরি করা ,পাঠ যেখানে বসার ব্যবস্থাও আছে ।আপনি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে হাপিয়ে গেলে সেখানে কিন্তু বসেও নিতে পারেন।

লর্ড বুদ্ধা স্ট্যাচু:

দুর্গা মন্দিরয়ে কিছু সময় কাটিয়ে ও পুজো দিয়ে আপনি বেরিয়ে পড়ুন লর্ড বুদ্ধা স্ট্যাচুর উদ্দেশ্যে। লর্ড বুদ্ধা স্ট্যাচু একটি শান্ত পরিবেশ ও এখান থেকে পুরো এলাকার প্যানারমিক ভিউ আপনি দেখতে পাবেন। আর প্রতিটা উচ্চতম স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে ।যদি সেই দিনটাই মেঘলা আকাশ না থাকে।

লর্ড বুদ্ধ পার্ক:

লর্ড বুদ্ধা স্ট্যাচু থেকে আপনি 10-15 মিনিট কাটিয়ে বেরিয়ে পড়ুন পরবর্তী গন্তব্য স্থল যেটি হচ্ছে লর্ড বুদ্ধা স্ট্যাচু এটি ভিজিটিং প্লেস এর মধ্যে একটি ,তবে এখানে সময় কাটানোর বা দেখার মত বেশি কিছু নেই ।

আর্মি গলফ কোর্সে:

এরপর আপনাকে পৌঁছাবে আর্মি গলফ কোর্সে ,এখানে ভেতরে প্রবেশ নিষেধ থাকায় ,বাইরে থেকে আপনার ছবি বা ফটোগ্রাফি করে নিতে হবে ।এই জায়গাটি কিন্তু খুবই শান্ত ও মনোরম আর্মিদের এলাকা হওয়ায় ,ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও ,এখানে আর্মিদের একটি রেস্তোরাঁ আছে যেখানে বসে আপনি কিন্তু ব্রেকফাস্ট বা চা কফি খেয়ে নিতে পারেন।

Kalimpong Durpin Dara Monastery
Durpin Dara Monastery

দুরপিন মনস্টার:

সেখান থেকে বেরিয়ে আপনাকে যেতে হবে দুরপিন মনস্টার যেটি, কালিম্পং এর সবচেয়ে বড় মনস্টার। এখান থেকে পুরো কালিম্পং শহর টা কিন্তু দেখতে পাবেন।দুরপিন পাহাড়ে অবস্থিত এই মনস্ট্রিতে 1976 সালে দলাই লামা এসেছিলেন। তার পর থেকে এই মনস্টার প্রভাব আরো বেড়ে যায় ।এখানে কিন্তু প্রচুর পরিমাণ তিব্বতীয় পুস্তকের সমাহার রয়েছে।

পাইন ভিউ ক্যাকটাস নাসেই:

এর পর পৌঁছলাম শেষ গন্তব্য স্থল পাইন ভিউ ক্যাকটাস নাসেই।এটি একটি প্রাইভেট প্রপার্টি মাত্র 20 টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম।বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় ক্যাকটাস আপনার গায়ে কাঁটা দেবে।ক্যাকটাস রং বেরঙের ফুল আপনাকে ছুতে বাধ্য করবে।কিন্তু খবরদার ছুবেন্না ছুলেই কিন্তু কাটা ফুটবে।তাছাড়া এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্গার চূড়ায় দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *