burj khalifa

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং Burj Khalifa

বর্তমান পৃথিবীর বুকে মনুষ্যনির্মিত সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো বুর্জ খলিফা।মানব প্রকৌশলের ইতিহাসে এটি এক অনন্য অর্জন ।2010 সালে চালু হবার পর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্য কোন দালান বুর্জ খলিফার উচ্চতা কে ছাড়িয়ে যেতে পারে নি।এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হবে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা সম্পর্কে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ শহর দুবাই ,একাধিক অতি উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য বিখ্যাত ।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই শহরের আকাশচুম্বি দালানের শারি। সমগ্র পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য দুবাইয়ের শাসকেরা এই শহরে পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এর ফলে 2004 সালের জানুয়ারিতে বুর্জ খলিফা নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ।

নামকরণ:

তারপর মাত্র ছয় বছরে অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে 2010 সালের জানুয়ারিতে ভবনটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নির্মাণ চলাকালীন সময়ে এর নাম বুর্জ দুবাই হিসেবে প্রচার করা হলেও উদ্বোধনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর সম্মানে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বুর্জ খলিফা ।

নির্মাণ:

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু দালানের উচ্চতা 828 মিটার বা 2717 ফুট। 163 তলা বিশিষ্ট এই এতটাই উঁচু যে ভবনের নিচতলা এবং সর্বোচ্চ তলার তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় 10 ডিগ্রি সেলসিয়াস ।এই ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে 12 হাজার কোটি টাকার সমান। ভবনের নিচের ফোয়ারা নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে 133 মিলিয়ন পাউন্ড।প্রতি বুধবার থেকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর এই প্রদর্শনী চলে

প্রশ্ন জাগতে পারে এত উঁচু বিল্ডিং এর কাজটা কি? বুর্জ খলিফা একটি বহুমাত্রিক ভবন, ভবনে আছে বহু নামিদামি রেস্টুরেন্ট হোটেল আবাসিক এপার্টমেন্ট অফিস স্পেস যোগাযোগ ও সম্প্রচার কেন্দ্র ।এবং এই ভবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ বুর্জ খলিফা পর্যবেক্ষণডেক। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণডেক থেকে বুর্জ খলিফার চারদিকে 90 কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দেখা যায় ।একইভাবে 95 কিলোমিটার দূর থেকেও বুর্জ খালিফার সর্বোচ্চ বিন্দুটি চোখে পড়ে।

নকশা:

বুর্জ খলিফার নকশা করা হয়েছে হাইমনোক্যালিস নামের একটি ফুলের আদলে। ধীরে ধীরে উপরে ওঠার সাথে সাথে এর একেকটি পাপড়ির দৈর্ঘ্য কমে এসেছে। ভবনটিতে রয়েছে তিনটি আলাদা প্রবেশপথ।একটি প্রবেশপথ আবাসিক ফ্লোরগুলোর জন্য আরেকটি হোটেলে যাওয়ার এবং অন্যটি বিভিন্ন অফিসের ।ভেতরে আছে 1000 বেশি বিলাসবহুল আবাসিক এপার্টমেন্ট। 43তলা এবং 76 তলায় আছে সুইমিংপুল ।বুর্জ খলিফায় থাকা আবাসিক হোটেল টিতে আছে 160 টি বিলাসবহুল কক্ষ ।

রেকর্ড:

পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং এর বিশ্বরেকর্ড ছাড়াও বুর্জ খলিফার আরো 6 টি বিশ্ব রেকর্ড আছে ।এই ভবনটি পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং স্ট্রাকচার বা স্বতন্ত্র ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তলা বিশিষ্ট ভবন। এছাড়া একই ভবনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তলা সম্পন্ন বিল্ডিং সবচেয়ে বেশি বহিরাঙ্গন পর্যবেক্ষণডেক আছে এই ভবনে। এখানে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যবহৃত লিফট ব্যবস্থা ।এবং সবচেয়ে দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণ লিফট ও বুর্জ খলিফায় রয়েছে ।

এখানকার সবচেয়ে দীর্ঘ লিফট 140 তলা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতি সেকেন্ডে 33 ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে অর্থাৎ এই লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় 40 কিলোমিটার নিচতলা থেকে 124 তলার পর্যবেক্ষণ ডেকে উঠতে সময় লাগে মাত্র 1 মিনিট এত দীর্ঘ লিফট থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ উচ্চতার দিক থেকে বুর্জ খলিফা আইফেল টাওয়ারের তিনগুণ এবং এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় দ্বিগুণ ।

বুর্জ খালিফা নির্মাণ করতে এক লক্ষ দশ হাজার টন কংক্রিট এবং 55 হাজার টন স্টিল দরকার হয়েছে। এই দালান নির্মাণে ব্যবহৃত কংক্রিটের ওজন প্রায় 1 লক্ষ হাতির ওজনের সমান ।ভবনটির নির্মাণকাজ যখন সবচেয়ে দ্রুত বেগে চলছিল তখন এমনও দিন গেছে যখন একদিনে প্রায় 12 হাজার শ্রমিক নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছে সে সময় প্রতি তিন দিন পর পর একটি ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে ।সকল শ্রমিকের সম্মিলিত পরিশ্রম হিসেব করলে 2 কোটি 20 লক্ষ ঘন্টা পরিশ্রম লেগেছে ।

বুর্জ খলিফার মতো আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরি করা হয় টিউব স্ট্রাকচার নামের একটি পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক কম খরচে টেকসই বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায় ।আপনারা নিশ্চয়ই জেনে অবাক হবেন বুর্জ খলিফার সহ বর্তমান পৃথিবীর প্রায় সকল আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরির এই অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন একজন বাঙালি তার নাম ফজলুর-রহমান-খান।বিশ্বব্যাপী তিনি এফ আর খান নামে পরিচিত ।

এমনকি বুর্জ খলিফা ভবনের নকশাকারী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আমেরিকার উইন্ডমিল এর পরিচালক হিসেবেও ফজলুর রহমান খান দায়িত্ব পালন করেছেন ।তার নকশায় নির্মিত সিয়ার্স টাওয়ার প্রায় দীর্ঘ 25 বছর পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল ।বাঙালী প্রকৌশলী শুধু বর্তমান পৃথিবীর ভবন নির্মাণ কাঠামো বদলে দেননি ,তিনি যেন মানবসভ্যতাকে পৌঁছে দিয়েছেন নতুন এক মাত্রায় ।এজন্য তাকে বলা হয় আইনস্টাইন অফ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলার আইনস্টাইন হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *